জান্নাতের বায়বীয় টিকিট বিক্রিকারীরা সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, ‘তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। বিএনপি সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত সংসদে পাস করবে।’
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
যশোরের উলাশি খালের পুনঃখনন ও যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধনের অংশ হিসেবে এ জনসভায় যোগ দেন তিনি। এ সময় তারেক রহমান আরও বলেন, ‘জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারীরা জনগণের রায় দেখে হতাশ হয়েছে। জনগণ বিশ্বাস করে বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। এটা তাদের পছন্দ না। তাই তারা বিএনপি ফ্যাসিস্ট বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যতই অপপ্রচার চালানো হোক জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। ফলে আন্দোলনের নামে জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।’
বিএনপি জনগণের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের সব চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বিএনপি সরকার।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ২০ বছর আগে যশোর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিয়েছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকার সেইকাজ কাজ এগিয়ে নেয়নি। শুধু হাসপাতাল নয় বিএনপি সরকারের কোনো উন্নয়ন কাজ গতি পায়নি। তাই শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শুরু করেছি। বিএনপি জনগণের দল, তাই তাদের জন্য কাজ করে।’
নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কোটি নারী এ কার্ড পাবেন। ফ্যামিলি কার্ডের মতো নারীদের সুবিধার্থে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি করা হবে। ভালো শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু করেছে। কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে ১২ লাখ কৃষককে ঋণমুক্তির সুবিধা দেবে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দেশের সব বন্ধ কল কারখানা চালু করা হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।’
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ বক্তব্য দেন।