দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ কোনো টিকা নেয়নি এবং ১৪ শতাংশ মাত্র এক ডোজ টিকা নিয়েছে আর ১২ শতাংশ দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে টিকা কার্যক্রম চলমান থাকায় আগামী ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে আক্রান্তের হার কমে আসবে বলে আশা করছে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হামে শিশু মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি পরীক্ষার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে রোগ শনাক্তে সময় লাগছে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে। বর্তমানে সব হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু থাকায় আক্রান্তদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সুযোগ নেই।
প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে।’
এদিকে, গতকাল দেশে ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৮ জন। যার মধ্যে ৮৮ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে আক্রান্ত সবার পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার।