শর্ত মানলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো রকম সমস্যা নেই। মানে একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের.... কারণ এটা নির্দলীয়, এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না। একজন নির্দলীয় ব্যক্তি আসলেন কিন্তু তিনি তার ক্যাম্পেইনে আওয়ামী লীগ বা তাদের যা যা বলার সেগুলো বলেন সেটা সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি তার যে ক্রাইটেরিয়া (শর্ত) আছে নির্বাচনটা করার জন্য, সেটা যদি তিনি ফুলফিল করতে পারেন, তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নিশ্চয়ই পারেন।’
যদি নির্বাচনে আসা কারও আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবি থাকে তাহলে কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পোস্ট পজিশন... আসলে যেটা হয় আরকি, সংগঠনের কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ আছে এই পোস্ট পজিশন তিনি তো আসলে ব্যবহার করছেন না, তিনি করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে যে কোনো কেউ যদি ক্রাইটেরিয়া যা আছে সেটা ফুলফিল করতে পারেন, তিনি যদি মনে করেন নির্বাচন করবেন তিনি নির্বাচন করতে পারেন। সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই এই ব্যাপারে।’
এসময় ব্যারেজ নির্মাণ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মতো তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প হাতে নেবে সরকার। ভারত থেকে বর্ষা মৌসুমে আসা পানি এই ব্যারেজের মাধ্যমে ধরে রেখে, শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা এলাকায় যদি ব্যারেজ কিংবা রিজার্ভার নির্মাণ করা হয়, তাতে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। যেটি বাংলাদেশ সরকারই বহন করতে পারবে। তবে এই প্রকল্পে অন্য কোনো দেশ সাহায্য করতে চাইলে, সে সুযোগও রাখা হবে।
পুশইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য ভারত থেকে পুশইন হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকার কারণে, তাদের সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এটি হচ্ছে। তবে শিগগিরই দু’দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে।