ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বুধবার নয়াদিল্লি থেকে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তার এই পরিকল্পিত বক্তব্য নিয়ে ভারতকে অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছে বাংলাদেশ।
ঢাকা মনে করছে, পলাতক সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হলে দুই দেশের ইতিবাচক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের আজ মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসিএসএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর। ২০২৪ সালের এ দিনেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
সেই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাড়াও দলটির আরও কয়েকজন নেতা যোগদান করবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা; যা শুরু হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এ বছর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। যদিও তিনি এই রায়কে ‘আইনগতভাবে অকার্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জাতিসংঘের হিসাব বলছে, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই দেশই যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
সাংবাদিকদের গতকাল সোমবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারতের সঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। সেই অগ্রগতি ব্যাহত হোক, আমরা তা চাই না। এ বিষয়ে ভারতকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।’
এফসিসিএসএ জানিয়েছে, ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ভিডিও সংযোগে ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। সঙ্গে থাকবেন তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয়।
এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া রয়টার্সকে জানায়নি এফসিসিএসএ ।
শামা ওবায়েদ বলেন, ভারত থেকে শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি একাধিকবার নয়াদিল্লিকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক, আমরা তা চাই না।’
ভারত আগে ইঙ্গিত দিয়েছিল, তাদের ভূখণ্ডে অবস্থানরত পলাতকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো তারা প্রত্যাশা করে না—সেই কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ জোর দিয়ে বলেন, এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ভারত সরকার নয়। প্রয়োজনে বাংলাদেশ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করবে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।