চার মাস বন্ধ থাকার পর রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চালে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বিমান যোগাযোগ আবার চালু হলো।
পুনরায় চালু হওয়া প্রথম ফ্লাইট বিজি-২০৮ দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ম্যানচেস্টার থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রীদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সিলেটে নির্ধারিত যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি দুপুর দেড়টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানান বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম।
এদিকে ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া উপলক্ষ্যে শনিবার ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ম্যানচেস্টারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার, বিমানের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা, ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রু এবং ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রুটটি পুনরায় চালু করা হলো, বিশেষ করে সিলেটের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যেই এই সেবা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হলো।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হুমায়ুন কবির এবং রুট পুনরায় চালুর দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই রুট পুনরায় চালু করা হবে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর হুমায়ুন কবির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেন এবং সেবাটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেন।
কবির গণমাধ্যমকে আগে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ছিল সরাসরি ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইট পুনরায় চালু করা। হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী, বিশেষ করে সিলেটের বাসিন্দারা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ফ্লাইট বন্ধের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে সিলেটিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। লন্ডন হয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হওয়ায় তাদের ভ্রমণ সময়, খরচ ও ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন বলেও জানান।
হুমায়ুন কবির আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের নিয়ে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসেরর বোর্ড সদস্য ড. খলিলুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠকেই তিনি জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়েছিলাম, এটি শুধু একটি বিমান সেবা নয়। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাদের পরিবার, সমাজ ও দেশের অর্থনীতির সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাই যেকোনো মূল্যে এই রুট চালু রাখতে হবে।’
প্রাথমিকভাবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি প্রতি মঙ্গল ও শনিবার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, যা সিলেট হয়ে ঢাকা ও ম্যানচেস্টারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানের সীমিতসংখ্যক ওয়াইড-বডি (বড় আকারের) উড়োজাহাজ হজ ফ্লাইটে ব্যবহার করার জন্য গত ১ মার্চ থেকে এই রুটের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। তখন এয়ারলাইনসটি জানায়, ম্যানচেস্টার রুটটি এককভাবে পরিচালনা করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়। কারণ তাদের বোয়িং ৭৮৭ ও ৭৭৭ উড়োজাহাজগুলো হজ, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতেও প্রয়োজন ছিল।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াত যেমন অনেক সহজ হবে, তেমনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।