জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হাই-লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (এইচএলপিএফ)-এ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জলবায়ু সহনশীলতা, পানি নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবননির্ভর শিল্পায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আউয়াল জানান, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
তিনি জানান, সেচব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি এবং গ্রাম ও শহরে নিরাপদ পানীয় পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
শনিবার (১১ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ড. আউয়াল সীমান্তবর্তী অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
এসডিজি-৯ বিষয়ে পৃথক বক্তব্যে ড. আউয়াল বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সহনশীল অবকাঠামো, টেকসই শিল্পায়ন ও উদ্ভাবন।’
তিনি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি), বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম), ডিজিটাল অবকাঠামো এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।
ড. আউয়াল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের কৃষি, জৈবপ্রযুক্তি, ওষুধ, চামড়া, ডিজিটাল ও সৃজনশীল শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব উদ্যোগ দেশের উন্নয়নের অর্জনকে সুরক্ষিত করবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে ও একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’