জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (অতিরিক্ত কমিশনার) তানজিনা রইসকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, তানজিনা রইস ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর এক মাসের ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড যান। তবে ছুটি শেষে তিনি আর কর্মস্থলে ফেরেননি। পরবর্তীতে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর ই-মেইলের মাধ্যমে দেওয়া জবাবে তানজিনা রইস একই বছরের ২৭ জানুয়ারি ৩ মাসের ছুটির আবেদন করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন এবং সেই ছুটি মঞ্জুরের অনুরোধ জানান। তবে বিধি অনুযায়ী ছুটির আবেদন না করায় ২০২৫ সালের ৪ মার্চ সেই ছুটির আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে অবিলম্বে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এমন নির্দেশনার পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় পরবর্তীতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ২০২৫ সালের ৯ জুলাইয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তানজিনা রইসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীকালে বিভাগীয় তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইন-সংগত আদেশ না মানা, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিতিকাল ৬০ দিনের বেশি হওয়া ছাড়াও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
পরবর্তীকালে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) এবং ত(গ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তানজিনা রইসকে একই বিধিমালার বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্ত করে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।