কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, টেকসই ও সেচনির্ভর করতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটবে, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তা, অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)-এর ফলাফল প্রদর্শনী ও মৎস্যচাষিদের মাঝে উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হুইপ অপু বলেন, দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে, ফসলের ফলন বাড়বে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতের উন্নয়নেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে মৎস্যচাষিদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার বিষয়ে হুইপ অপু বলেন, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ঢেউটিন, নগদ অর্থ, খাদ্যসহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষক, জেলে, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। কৃষি ও মৎস্য খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক খাতে পরিণত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, মৎস্যচাষি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে উপকারভোগীদের মাঝে ঢেউটিন, আর্থিক সহায়তা, শুকনা খাবার এবং মৎস্যচাষের বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়।