দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সরকার জনগণের স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা জানান, সরকার জনস্বাস্থ্যের এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু টুথপেস্টেই নয়, বরং একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা ব্যাধির মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। টুথপেস্ট ব্যবহার না করলেও পরিবেশের বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্ট মাইক্রোপ্লাস্টিক ইতোমধ্যে আমাদের নিত্যদিনের খাবার ও পানিতে মিশে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। শুধু টুথপেস্ট বা নির্দিষ্ট কোনো একক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে যেহেতু এটি ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে, তাই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিশ্চয়ই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি যে জনগণের মধ্যে এখন স্বাস্থ্য সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। আর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার সবসময়ই জনস্বার্থ রক্ষা ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
এর আগে, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) সম্প্রতি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে। তাদের গবেষণায় ২৬ নমুনায়, অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য বাজারজাত কয়েকটি টুথপেস্টেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।