সাধারণত পৌষ ও মাঘ মাস নিয়ে শীতকাল। আজ পৌষের ২২ তারিখ। মৌসুমের শুরুর দিকে একটু কম থাকলেও পৌষের মধ্যভাগে এসে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার প্রভাবে কনকনে শীতে কাঁপছে রাজধানীসহ সারাদেশ। কোথাও কোথাও তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে ৭-৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। কোথাও বইছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যন্ত প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের জনজীবন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাজশাহীতে। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ফলে রাজশাহীর ওপর দিয়ে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস বলছে, একদিনেই ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে গেছে। রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে দাঁড়ায় ৬০০ মিটার।
এর আগে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয় পাবনার ঈশ্বরদীতে। তার আগে গত ৩ জানুয়ারি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
গত ১ জানুয়ারি আবহাওয়া অফিসের মাসব্যাপী পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি জানুয়ারিতে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সূর্যের দেখা নেই। তাপমাত্রা কম আর ঘন কুয়াশার কারণে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে।
তীব্র শীতে বেড়েছে শীতকালীন রোগের প্রার্দুভাব। জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রোগীরা। তাদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়োবৃদ্ধ।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই বছর উত্তরাঞ্চলে রংপুরের সৈয়দপুরের তাপমাত্রাও রেকর্ড ভাঙে, এটি ছিল ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।