সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, সরকারে থাকা অবস্থায় শেষ চার মাস কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি’ আয়োজিত ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মাহফুজ আলম বলেন, কারণ আমরা চেয়েছিলাম নতুন মিডিয়া আসুক। নতুন কিছু মিডিয়া অভ্যুত্থান ও তরুণদের পক্ষে ভালো কাজ করেছে। এতেই পুরোনো বন্দোবস্তধারীদের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ ভীতি সঞ্চার হয়েছে। তাই আমরা যেন কোনোভাবেই কাজ করতে না পারি, তারা সেই ব্যবস্থা করেছে।
তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা নতুন রাজনৈতিক পরিষদ তৈরি হবে। একটা প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত হবে এবং নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু আমরা কখনোই এটা চাইনি যে, একটা ধর্মপন্থি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গিয়ে উনারা (এনসিপি) আঁতাত করবেন। এটার জন্য আমরা এই রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি বা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি করিনি। আমার কমরেডরা এখন ভূতের পায়ে হাঁটা ধরেছে। অর্থাৎ, পেছনের দিকে হাঁটা ধরেছে। ফলে লড়াইটা আরও দীর্ঘ হবে বলেই দেখা যাচ্ছে। আমরা কোথায় ভুল করলাম, তা আমাদের নতুনভাবে দেখা ও বোঝা দরকার।
তিনি আরও বলেন, সিস্টেমের অধীনে থেকে রাজনৈতিক দলগুলো কাজ করছে এবং গত দুই বছরে পদে পদে সংস্কার ও বিচারের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিচার ও বিভিন্ন তদন্ত কমিটিকে নিজেদের রাজনৈতিক বার্গেনিং টুল হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই দলগুলোর কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করাটা আমি মনে করি ভূতের মতো পিছে হাঁটার মতো।
মাহফুজ আলম বলেন, যে স্বপ্নটা নিয়ে শুরু করেছিলাম, সে স্বপ্নটা জাগিয়ে রাখতে আমি ব্যক্তিগতভাবে, সামষ্টিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা হয়তো একটা নতুন প্ল্যাটফর্ম করব বা কিছু একটা চেষ্টা করব। আমরা অন্তত এই আশাটা বাঁচিয়ে রাখতে চাই, বিকল্প সম্ভব। ‘বিকল্প আমরা’ বলে যদি আমরা আবার পুরোনো দলের কাছে দাসখত দিই, তাহলে আর বিকল্প আমরা থাকি না।