এবারের ভোট ও গণভোট সফলভাবে করতেই হবে। যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না। এমন কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে আরও অংশ নেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান। এসময় প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব আমাদের সবার। সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ সময় উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৈঠকে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। জামায়াতে ইসলামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু করেছে। ২২ জানুয়ারি থেকে পাশাপাশি দুই ক্যাম্পেইন চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনব। সরকারের যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার থাকে, নেব।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে। এগুলো জানুয়ারির মধ্যে ইনস্টল হয়ে যাবে। ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে এমন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে এগুলো সব মনিটর করা হবে। ফুটেজ রেকর্ড থাকবে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটা মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, কেউ কেউ বলছেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা আইনসম্মত কি না কিন্তু আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি এতে কোনো আইনি বাধা নেই। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সংস্কারের পক্ষে থাকা।
মুহাম্মদ ইউনূস জানান, নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিরসনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া নির্বাচন উপলক্ষ্যে একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে, যেখানে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন সফল ও দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।