অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেছেন, সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব রক্ষার মূল দায়িত্ব সাংবাদিকদের নিজেদেরই। ধমকা-ধমকি বা হুমকি দিয়ে কিছু অর্জন করা যায় না, কারণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে হুমকি ও ধমকা-ধমকির কোনো সম্পর্ক নেই।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট’স অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ঢাকা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং শহীদদের স্মরণে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, সংবিধানে মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব অধিকার অন্তরে ধারণ করেই সাংবাদিকদের আইনের কাঠামোর ভেতর থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতা করার সময় মূল লক্ষ্য হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা। সংবাদ বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিবেশন করা হয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষণে ভিন্নমত থাকতে পারে—কেউ খুশি হতে পারে, কেউ নাও হতে পারে—তবে নিজের মত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করার অধিকার সাংবাদিকের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল আবেদন হলো—স্বৈরাচারী ব্যবস্থা যেন আর কখনো ফিরে আসতে না পারে। স্বৈরাচার শুধু ব্যক্তি বা সরকার নয়; আইনের বাইরে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা বা বাধা দেওয়া হলেও তা স্বৈরাচারী আচরণের মধ্যে পড়ে।
সাংবাদিকদের দলীয় পরিচয় প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত বা দলীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতা করার সময় দেশের মানুষ সাংবাদিকদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠতা প্রত্যাশা করে। অতীতে সরকারের সঙ্গে থেকে সুবিধা নেওয়া এবং বর্তমানেও সুবিধা নেওয়ার মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। পেশাদার সাংবাদিকতার চর্চা গড়ে উঠলে যে কোনো সরকার সাংবাদিকদের দমন করার আগে দুইবার ভাববে।
আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর খসড়া জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। খসড়া মানেই চূড়ান্ত নয়। যুক্তিসংগত মতামত পেলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। সব দাবি পূরণ না হলেও আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, সমালোচনা ও প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ নিন্দনীয়। জুলাই স্পিরিট মানেই ভিন্ন মতকে ধারণ করা। গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্ন মতের সহাবস্থান থাকতে হবে। গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতন্ত্র রক্ষায় সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের আনুগত্য পরিবর্তনের অভিযোগ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে পেশাগত উত্তম চর্চার মাধ্যমে।
সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান আরও বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি বা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ থাকলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হবে।
শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মতবিরোধ থাকলেও সাংবাদিকতার প্রশ্নে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকেন।