জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শেষ হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নাগরিক প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গত প্রায় এক বছর ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। এ সময় দুদক তাদের নিজস্ব তদন্ত পদ্ধতি, গোয়েন্দা তথ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা ব্যবহার করে বিষয়টি যাচাই করে।’
তিনি বলেন, ‘তদন্তের অংশ হিসেবে তার ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন, পরিবার-পরিজনের ব্যাংক হিসাব, এমনকি দেশি-বিদেশি কোনো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি তার মোবাইল যোগাযোগ ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ও যাচাই করা হয়েছে।’
তানভীর জানান, তার কাছে মনে হয়েছে দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া যথেষ্ট স্বচ্ছ এবং কঠোরভাবে পরিচালিত হয়। তবে পুরো তদন্ত চলাকালে কর্মকর্তাদের আচরণ ছিল সহযোগিতাপূর্ণ। শুরুতেই তাকে বলা হয়েছিল, তিনি যদি তদন্তে সহযোগিতা করেন, তবে দুদকও তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও জানান, তিনিও তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নথি দিয়েছেন। পরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান পরিসমাপ্ত করেছে।
তানভীর বলেন, ‘দুদক সাধারণত দায়মুক্তি বা অব্যাহতি শব্দ ব্যবহার করে না। বরং কোনো অভিযোগে অনুসন্ধান শেষে অনিয়মের প্রমাণ না পেলে অনুসন্ধান পরিসমাপ্ত শব্দটি ব্যবহার করা হয়।’
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, সে সময় অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ তাদের কাছে একটি অনুরোধ করেছিলেন। তৎকালীন পরিস্থিতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাত্রজনতার অংশগ্রহণ ছিল। ওই সময় কিছু মুদ্রণালয় সঠিকভাবে বই সরবরাহ করছে কি না, তা খোঁজ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘কিছু ছাপাখানা দিনে সীমিত সময় কাজ করত বা বই ছাপা ও বাঁধাইয়ে বিলম্ব করত, এমন তথ্য তারা মাঝে মাঝে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলেন। তখন পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সংকট থাকায় বাইরে থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহে তাদের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল।’
তানভীরের দাবি, এই প্রেক্ষাপটকে ভুলভাবে ব্যবহার করেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল।