প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। এ সময় এবি পার্টির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বুধবার (১১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সংসদ ভবন কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে এবি পার্টি ও ফেনীতে নিজ নির্বাচনি এলাকার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দুইটি আলাদা সুপারিশ চিঠি হস্তান্তর করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া সুপারিশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ নানাদিক উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাতে এবি পার্টির অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন- দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।
প্রধানমন্ত্রী এবি পার্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশ ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় নেতারা জুলাই-আগস্টের উত্তাল সময়ের স্মৃতিচারণ করেন।
সাক্ষাতে এবি পার্টির পক্ষ থেকে জাতীয়ভাবে প্রদত্ত সুপারিশগুলো হলো-
১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ নিয়ে শুরুতেই যে বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হয়েছে আইনি এবং সাংবিধানিক বিতর্ক এড়িয়ে তার একটি সমঝোতামূলক গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া।
২. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের সামনে যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা আছে, তা মোকাবিলার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সার্বজনীন পরামর্শ সভার আয়োজন করা।
৩. দেশের আইনশৃঙ্খলাজনিত একটি আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সুবিধাজনক সময়ে যথাশিগগির সম্ভব একটি যৌথ অভিযান চালানোর মাধ্যমে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট কঠোর অবস্থানের বার্তা জানিয়ে দেওয়া।
৪. মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদি শাসন আমলের ভয়াবহ জুলুম নির্যাতনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন গণহত্যার বিচার এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বিএনপি যে নির্বাচনি অঙ্গীকার করেছিল, তা বাস্তবায়ন।
জাতীয় ইস্যু ছাড়াও আরও কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন মঞ্জু। সেগুলো হলো-
১. ফেনীতে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
২. ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তর করা।
৩. ভূ-রাজনৈতিক ও যোগাযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ফেনীতে একটি এয়ারপোর্ট এবং সেনা ব্রিগেড স্থাপন করা।
৪. ফেনীকে বন্যার করাল গ্রাস থেকে মুক্তকরণ, ফেনী শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, শহরের গ্যাস সংকট দূরীকরণ, ফেনীর বিসিক শিল্পনগরীকে আধুনিকায়নসহ কিশোর গ্যাং, মাদকের দৌরাত্ম্য, অবৈধ মাটির ব্যবসা বন্ধ, মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণে ব্যবস্থা গ্রহণ, ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোস্ত টেক্সটাইল মিল চালুসহ শহরের ময়লার ডিপো স্থানান্তরে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ।
৫. দুর্ঘটনাপ্রবণ ফেনীর লালপোল এবং অসহনীয় যানজট নিরসনে ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ।