জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. সাহাবুদ্দিন লাল্টু বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে আন্দোলনের মুখে বর্তমান সরকারের পতন হবে। একবার পতন হলে আর কখনো তারা ঘুরে দাড়াতে পারবে না। সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে মো. সাহাবুদ্দিন লাল্টু বলেন, এই সরকারি দলের নেতারা ভুলে গেছেন যে, আন্দোলন করে তারা ১৬/১৭ বছর শেখ হাসিনার কিছুই করতে পারেননি। আবার যদি বিপদে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হন, অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতে তারা নিপতিত হবেন।
তিনি লেখেন, মানুষ সব কথা মনে রাখে। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে ৩ জোটের রূপরেখা তারা পুরোপুরি মানেননি। বরং মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপি করায় দেশে যে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উঠেছিলো, তারা তা না মেনে বরং ১৫ ফেব্রুয়ারির মত একটি একতরফা নির্বাচন করে দলকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। মানুষ তা মনে রেখেছিল।
তিনি আরও বলেন, আবার ২০০১ এ ক্ষমতায় এসে তারা বিচারপতিদের চাকুরির বয়স এমনভাবে বাড়িয়েছিলেন, যাতে কে এম হাসান নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারেন। কিন্তু আ. লীগ তা হতে দেয় নি। দেশে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। জ্বালাও পোড়াও হয়েছে। শেষমেষ দেশে ইমার্জেন্সি এসেছিলো। মানুষ এটাও ভুলে যায়নি।
ছাত্রদলের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক লেখেন, এই ১৯৯১ আর ২০০১ এ ক্ষমতায় এসে তারা কি কি করেছিলো, তা মানুষ মনে করে রেখেছিলো। সেজন্যই হাসিনা তার ১৬/১৭ বছরের ফ্যাশিজম টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। কারণ মানুষের কাছে হাসিনা প্রশ্ন ছুড়ে দিতেন, আমাকে আপনারা সরাবেন ভালো কথা কিন্তু আনবেন কাকে?
সুতরাং এবার যদি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পতন ঘটে, তারা সহজে আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। কারণ মানুষ সব কথা মনে রাখে। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন বিষয়ক বেঈমানীর কথা মানুষ কিছুতেই ভুলবে না।
মো. সাহাবুদ্দিন লাল্টু বলেন, একটি কোম্পানি যেমন তার কাস্টমার বেইজ হারিয়ে ফেললে আর টিকতে পারে না, বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও তাদের সমর্থক বেইজ এমনভাবে হারাবে যে, শেষমেষ জাতীয় পার্টির মতোন রাজনীতিতে অপ্রাসংগিক হয়ে যাবে। বার বার কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে জীবন দিয়ে তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে জনগনের সঙ্গে বেঈমানি করার সুযোগ দেবে, এমন সম্ভাবনা কম। ধন্যবাদ।