বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কমিটি বিলুপ্ত, অনুদানের তথ্য গোপন এবং অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, ২০২৫ সালের ২৫ জুন জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচিত কমিটিকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা, কেন্দ্রীয় যোগাযোগমাধ্যমের প্রশাসনিক প্রবেশাধিকার না দেওয়া এবং একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারে নামে অন্তত এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থের উৎস ও ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীলদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বারবার জবাবদিহি চাইলেও তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ১২ এপ্রিল ডাকা এক বৈঠকে অর্থ ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের আগেই উপস্থিত ব্যক্তিদের মোবাইলফোন জব্দ করে নেওয়া হয়, যাতে কোনো তথ্য সংরক্ষণ করা না যায়।’
তার দাবি, এসব ঘটনায় পরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম ও সম্ভাব্য অর্থ আত্মসাতের ইঙ্গিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংগঠনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা কোনো সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বৈছাআকে অবৈধভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন এবং একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।
এছাড়া, সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে অনুমোদনহীন প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগও তোলা হয়।
সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, ‘ফান্ডের উৎস ও ব্যয়ের সঠিক তথ্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও উপদেষ্টা কমিটিকে অবৈধ দাবি করে তা বাতিল, আর্থিক হিসাব প্রকাশ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে সংগঠন পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।