ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এনসিপি প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান ঘটছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল না করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালতের রায় বাস্তবায়নেই কমিশন অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই মামলায় কমিশন পক্ষভুক্ত ছিল না। ফলে আপিল করার প্রশ্নও আসছে না, আমরা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশনার আলোকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র এখন গ্রহণ করা হবে ও পরের ধাপে তা যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। বাছাইয়ে বৈধ প্রমাণিত হলে ও পরের আপিল প্রক্রিয়ায় টিকে গেলে তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
এর আগে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করায় নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। গত ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা থাকলেও নুসরাত তাবাসসুম ৪টা ১৯ মিনিটে তা জমা দেন। এ কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার আবেদন গ্রহণে অপারগতা জানান, যা তার প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। পরে তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইনি ব্যবস্থা নিতে ইসিকে নির্দেশ দেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন, স্বতন্ত্র একজন ও ব্যক্তিগতভাবে তিনজন প্রার্থী ছিলেন।
পরে ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি জোটের সব ৩৬ জন প্রার্থী বৈধতা পান। জামায়াত জোটের ১৩ জনের মধ্যে একজন, এনসিপির মনিরা শারমিন সরকারি চাকরি ছাড়ার নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ না করায় বাতিল হন। ফলে জোটটির বৈধ প্রার্থী দাঁড়ায় ১২ জন। স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী বৈধ হন, আর ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়া তিনজনের মধ্যে একজন প্রত্যাহার করেন ও দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল ও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।