জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া গভীর অচলাবস্থায় পড়েছে এবং এ থেকে উত্তরণের জন্য গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল দ্রুত গঠন করা জরুরি।
শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টায় গুলশানের হোটেল ওয়েস্টইন এ আয়োজিত ‘সংস্কার অচলাবস্থা: উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল একটি ঐতিহাসিক জাতীয় জাগরণ, যেখানে জনগণ কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের কাঠামোগত রূপান্তরের দাবি জানিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে বরং পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত জুলাই সনদ এবং ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া ও উচ্চকক্ষ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অনীহা ‘গণ রায়ের প্রতি অবহেলা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এনসিপির এই আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সমর্থন দিলেও ক্ষমতায় এসে সরকার সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন থেকে সরে এসেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বাতিল করেছে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণ, দুর্নীতি দমন কমিশনে স্বচ্ছতা, গুম প্রতিরোধ, পুলিশ সংস্কার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মতো উদ্যোগগুলো বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা ভবিষ্যতে আবারও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে, যেমনটি অতীতে বিভিন্ন সংশোধনীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
অর্থনৈতিক খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ থমকে গেছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে তিনি পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্থিতিশীলতা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক বৈধতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান থেকেই আসতে পারে।’ তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।