বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করে বলেছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন যৌথভাবে আজ প্রতিবাদ মিছিল করেছে। এই মিছিলের উদ্দেশ্য হলো ফ্যাসিবাদের উঁকি দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করা।
তিনি বলেন, যারা জনগণের জীবন থেকে সুন্দর ভোর, সূর্যের আলো, স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন এবং মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন নানা কায়দায় তাদের চুরি ও পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পাচার করা টাকা দিয়ে পতিত শক্তি আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। শেখ হাসিনা নির্বাচন কেড়ে নিয়ে যে দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিলেন, সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের চেষ্টা চলছে।
আওয়ামী লীগ আমলের গুম-খুনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের যখন ১৭ বছরেও দমাতে পারেননি, তখন বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়েছেন, র্যাব পাঠিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছেন। জনির মতো অসংখ্য জাতীয়তাবাদের সৈনিককে হত্যা করেছেন। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরুসহ অসংখ্য নেতাকে গুম করেছেন। আবার কি গুমের রাজত্ব কিংবা ক্রসফায়ার ফিরে আসবে? জনগণ কি সেটা সমর্থন দেবে? না, জনগণ সেটাকে সমর্থন দেবে না।
ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ার করে রিজভী বলেন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে। তবে তা আর সম্ভব নয়। কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়, বরং সবসময় সজাগ থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, শুধু তারা নয়, তাদের পক্ষের অনেক মহল আজ এমন কথাবার্তা বলছেন, যা দেশবিরোধী ও সার্বভৌমত্ববিরোধী।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এই উপদেষ্টা বলেন, একটি মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন, ২ লাখ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই জাতিকে আপনারা গোলাম বানাবেন? দিল্লির ক্রীতদাস বানাবেন? এটা হবে না। দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ। তাই দেশকে আর দিল্লির গোলাম বানানো যাবে না।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্যসচিব আব্দুর রহিমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।