রাজধানীর পল্লবী থানা বিএনপির নবনিযুক্ত যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে এসেছে। গত ২২ জুলাই তাকে পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির স্থানীয় একাংশের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম অতীতে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যও ছিলেন না। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একই সময়ে পল্লবীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও যুবলীগ নেতা কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে।
নেতাকর্মীদের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলিয়াস মোল্লার নৌকা প্রতীকের পক্ষে পল্লবীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নজরুল ইসলাম। এ সময় তার গলায় নৌকার ফটোকার্ড ঝোলানো অবস্থায় ভোটকেন্দ্রের আশপাশে অবস্থানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও দাবি তাদের।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতায় কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে তাকে রাজপথে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভাইদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামি হওয়ার দাবিও সামনে এসেছে। পাশাপাশি অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, থানা ও হাউজিং-সংক্রান্ত দালালি এবং নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি রূপালী বিবাহ ঘরে অনুষ্ঠিত এনসিপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলনে নজরুল ইসলাম সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী ও ভাতিজার এনসিপিতে যোগদানের বিষয়টিও সামনে এনেছেন অভিযোগকারীরা।
এত অভিযোগের পরও কীভাবে এবং কার সুপারিশে নজরুল ইসলাম পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেলেন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, তার নিয়োগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সুপারিশ, প্রভাব বা অন্য কোনো বিবেচনা কাজ করেছে কি না, তা দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নজরুল ইসলাম। নাগরিক প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯১ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তৎকালীন মিরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলাম। কোনো দিন কোনো কালেও আমি আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম না।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যে ছবিকে কেন্দ্র করে তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটি একটি মাদকবিরোধী অনুষ্ঠানের ছবি।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের অভিযোগ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যেহেতু মিরপুর বেনারসি পল্লী মার্কেটে দীর্ঘকাল যাবৎ ব্যবসা করে আসছি, সেই সুবাদে নির্বাচনের সময়ে মার্কেট পাহারার কাজে অন্যান্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে-প্রাণে বিএনপিকে ধারণ করে আসছি ছাত্ররাজনীতির আমল থেকেই।’ তার দাবি, একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তার এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে সত্যতা যাচাই এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের।