বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি একটি পরিবেশবান্ধব দল। বৃক্ষরোপণ, নদী-নালা ও জলাশয় রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দলটি কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি আর বৃক্ষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিএনপি এবং বিশুদ্ধ নদী-নালার মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই।’
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাছপালা, মাছ, নদী, পুকুর, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে মানুষের জন্য বিশুদ্ধ বাতাস ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণকে পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, একসময় শরৎকালে বিল ও ঝিলের পাশে কাশফুলের সৌন্দর্য দেখা যেত। কিন্তু জলাশয় ভরাটের কারণে এখন সেই দৃশ্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই পরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শহরের যেসব স্থানে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেখানে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পাশাপাশি নদী, খাল, বিল ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের উদ্যোগের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, একসময় পুরান ঢাকার অপরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, নদী-নালা ও জলাশয়ের কারণে এলাকাটি ভীতিকর মনে হতো। তবে বর্তমানে বিভিন্ন পুকুর, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার করায় পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছয় মাসে আড়াই কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য থাকলেও এরই মধ্যে প্রায় তিন কোটির বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের সময় মামলা, হামলা ও নিপীড়নের মধ্যেও বিএনপির নেতাকর্মীরা বৃক্ষরোপণ ও নদী-নালা পরিষ্কারের কর্মসূচি পালন করেছেন বলেও দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, করোনার সময়ও ঝুঁকি নিয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
রিজভী বলেন, বিএনপি জনস্বার্থের দল। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। জনগণের কল্যাণে দলটি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেয়েদের বিএ ও অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার কথা বলেছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।