পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পেলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সরকার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখবে।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলে সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের এমন অবস্থান নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যটি তার দৃষ্টিগোচর করেন।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন সব বিষয়ের ওপর আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখি।’
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আগ্রহ প্রকাশ করলে পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করবে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘এটি হলো একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। যার লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে এই চুক্তিতে সেসব দেশ যোগ দিতে পারবে, যারা যৌথ দায়িত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে একই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।’
বাংলাদেশকে ইঙ্গিত করে পাকিস্তানের এ মুখপাত্র বলেন, কোনো দেশ এতে যুক্ত হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রংপুরে এক শিক্ষক ও তার স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার ঘটনা নিয়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের কাছে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।
ভারতের মুখপাত্রের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশটির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে আসে।