আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতিকে এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি অপরিহার্য। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
আইনমন্ত্রী বলেন, শুধু জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে আগামীর প্রজন্মকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ। আগামীর বিশ্বে বিএনপিকে এগিয়ে নিতেও জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই।
জিয়া স্মৃতি বইমেলার আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এই বইমেলা নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের যত শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার সবই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের হাত ধরেই এসেছে। ১৯৭১ সালে গোটা জাতি যখন দ্বিধাবিভক্ত ছিল এবং তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে গড়িমসি করছিল, তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান ব্যারাকে ফিরে যান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে রক্তপাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং কেরানীগঞ্জের সিদ্দিক মাস্টার বাংলাদেশে প্রথম গুমের শিকার হন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন সিরাজ শিকদার।
তিনি বলেন, খন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্রে শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্যু-পাল্টা ক্যু শুরু হয়। উত্তাল সেই সময়ে দেশের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়লে জিয়াউর রহমান তাদের রক্ষা করেছিলেন।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দায়িত্ব নিয়ে দেশের গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান সব দ্বার উন্মুক্ত করে মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিকেরা জীবন দিয়েছেন। বিএনপির ৭০০-এর বেশি নেতাকর্মী গুম হয়েছেন এবং ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
গত জুলাই আন্দোলনে এই প্রজন্মের ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।