দীর্ঘ ১৮ বছরের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) স্বদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অবশেষে নেতাকর্মীদের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই নানান কর্মসূচিতে অংশ নিবেন তিনি।
তার প্রথম কয়েক দিনের কর্মসূচির বিষয়ে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ইতিহাস হতে চলেছে, যার সাক্ষী হয়ে থাকবে দেশবাসী। তবে এ আয়োজনে জনদুর্ভোগ হবে, জাতির কাছে তাই আগাম দুঃখ প্রকাশ করছি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে বাংলাদেশ সময় বুধবার মধ্যরাতে রওনা করবেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে অবতরণ করবেন ঢাকায়। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে অনাড়ম্বর সংবর্ধনা দেবে বিমানবন্দরে। এভারকেয়ারে যাওয়ার পথে ৩০০ ফিটে দেশবাসীর উদ্দেশে কথা বলবেন অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে। তারেক রহমান ছাড়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অন্য কেউ বক্তব্য দেবেন না। এভারকেয়ার থেকে চলে আসবেন বাসভবনে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২৬ তারিখ (শুক্রবার) বাদ জুমা বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে যাবেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে, তারপর সাভার স্মৃতিসৌধে যাবেন। ২৭ তারিখ (শনিবার) নির্বাচন কমিশনে ভোটার ও এনআইডি কার্ড কার্যক্রম সম্পন্ন করে শহিদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর পঙ্গু হাসপাতালে জুলাইয়ের আহত যোদ্ধাদের দেখতে যাবেন।’
মানুষের দুর্ভোগ যেন না হয়, তাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কিংবা মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মতো রাজধানীর কেন্দ্রে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান সাধারণ মানুষের অসুবিধা ও কষ্টের জন্য। যা মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়, তারেক রহমান তা পছন্দ করেন না। নির্দেশনা পালনের শতভাগ চেষ্টা করার পরও মানুষের আবেগের কারণে এ অনুষ্ঠান।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ইতিহাস হতে চলেছে, যার সাক্ষী হয়ে থাকবে দেশবাসী। তবে এতো বড় অনুষ্ঠান ত্রুটিহীন করা ক্ষুদ্র কমিটির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই শৃঙ্খলার সঙ্গে আয়োজনকে সফল করার আহ্বান জানাই। এবং এ আয়োজনে জনদুর্ভোগ হবে, জাতির কাছে এ বিষয়ে আগাম দুঃখ প্রকাশ করছি।’
সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের ২০টি মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, মঞ্চের কাছাকাছি ৬ শয্যার মেডিকেল ক্যাম্প ও আইসিইউ সুবিধা সম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।’