সদ্যপ্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে গেছেন তার বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গতকাল রাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেষ সময়ে তিনি তার মায়ের পাশেই ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা শেষ সময়ে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন।
খালেদা জিয়া আজ (মঙ্গলবার) ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
এদিকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৭ দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার থেকে আগামী একসপ্তাহ দলটির সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এই সময়ে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন দলের নেতাকর্মীরা।
সেইসঙ্গে, নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে শোক বই খোলা রাখবে বিএনপি।
মঙ্গলবার সকাল নয়টায় দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
কর্মসূচি ঘোষণার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, এগুলো প্রাথমিকভাবে নেওয়া কর্মসূচি। পরবর্তীতে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। ভাষণে তিনি গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও তার নামাজে জানাযার দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে এবং তার নামাজে জানাযার দিন এক দিনের সাধারণ ছুটি থাকবে। জানাযাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি বিনীত আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ‘দেশনেত্রী’ , ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিলেন তার প্রিয় দেশবাসীর কাছ থেকে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, খালেদা জিয়া আজ (মঙ্গলবার) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।