জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ইসলামী আন্দোলনের পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোট ছাড়ার তথ্য জানান দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ইনসাফের দিক থেকে বঞ্চিত হওয়া ও ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কথা বলেছেন গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘একটি দলের কর্মকাণ্ড আমাদের দলের আত্মসম্মানবোধে আঘাত করেছে। কারও অনুগ্রহের আসন নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় থাকবে। আমাদের দলের সব নেতাকর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শালীনতাবোধ বজায় রাখার জন্য।’
গাজী আতাউর বলেন, ‘আদর্শিক ও নৈতিকভাবে আমরা কোনো সংগঠনের চেয়ে দুর্বল নই। জামায়াতে ইসলামী আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করবে না বলে জানিয়েছে। এই অবস্থায় আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে জোট করেছিলাম, তা কম্প্রোমাইজ হয়ে যায়। তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছি।’
তবে ১০ দলের জোটের কোনো দলের সঙ্গে বিরোধ নেই বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র।
তিনি জানান, জামায়াত আমির বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বেগম জিয়ার ঐক্যের পাটাতনে দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করবেন। এমন বক্তব্য আমাদেরকে শঙ্কিত করেছে। আগামীতে পাতানো নির্বাচন হবে। আমরা কোনো পাতানো নির্বাচনে কারো সমঝোতার অংশ হতে চাই না।
নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র জানান, নির্বাচনে ১১দলীয় জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন। দলের পক্ষ থেকে ২৭০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। এরমধ্যে দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে যে ২৬৮ জন প্রার্থী আছেন তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
তিনি আরও জানান, বাকি ৩২টি আসনেও আমরা সমর্থন দেবো। কাদের সমর্থন দেয়া হবে, সেটা মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেবো। আমাদের নীতি-আদর্শ ও লক্ষ্যের সঙ্গে যাদের মিল হবে, তেমন সৎ লোকদের সমর্থন দেয়া হবে। আমরা আশা করি ৩০০ আসনেই আমাদের প্রার্থী থাকবে। যাতে ইসলামের পক্ষে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ওয়ান বক্স নীতির সঠিক বাস্তবায়ন হয়।