রাজনীতির নানা সমীকরণ ও আদর্শের বহুমাত্রিক বোঝাপড়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে একক নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাতপাখা না থাকা আসনে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির সৎ ও দক্ষ প্রার্থীকে আলোচনার ভিত্তিতে সমর্থন জানাবে তারা। রোববার (১৮ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
আতাউর রহমান জানান, ‘২০ জানুয়ারির পরে প্রচারণা শুরু হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হাতপাখা যেসব আসনে থাকবে না, সেই ৩২ আসনের সমর্থন ঘোষণা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আপাতত ভাবছি না। সময় এলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
নির্বাচনের আগে জুলাই জাতীয় সনদসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আন্দোলনে নেমেছিল ইসলামী আন্দোলন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরীক হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণাও দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াত জোটের সঙ্গে থাকতে পারেনি ইসলামী আন্দোলন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ঘোষণা দেন, ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা। ফলে ১১ দলীয় জোট পরিণত হয় ১০ দলে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে জাাময়াতসহ ১০ দলীয় জোট। বাকি ৪৭ আসন আলোচনার ভিত্তিতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জামায়াত জোটের অন্যতম শরীক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানান, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই। ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ার পেছনে তৃতীয় পক্ষের কোনো ইন্ধন নেই দাবি করে মামুনুল হক বলেন, ‘বোঝাপড়ার ঘাটতি থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে ভোটের মাঠে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।’
১১ দলীয় জোট যে ভাঙনের পথে, এমন গুঞ্জন বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছিল। জোটের দেওয়া আসনের চেয়ে অনেক বেশি দাবি ছিল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের। অবশেষে গুঞ্জনকে সত্যি করে একলা চলো নীতি বেছে নেয় তারা।