জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে বিএনপি সকল ধরনের সাম্প্রদায়িকতা ও হিন্দু-খ্রিস্টান-মুসলমানের ভেদাভেদ বন্ধ করে একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলে অসাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা নিমবাড়ী এলাকায় এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ভোটে বিজয়ী হলে বিএনপি দেশে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে আসবে। কোন ধরনের সাম্প্রদায়িকতা বা ভেদাভেদ নয়, এখানে সবাই যে যার ধর্ম পালন করবে। কেননা ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রটা সবার।’
বর্তমান জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এমন একটা দেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম নিয়ে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সকল প্রকার বিভেদ ভুলে আমরা যদি একসঙ্গে এগিয়ে যাই, তাহলে আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না। মনে রাখবেন, যারা দেশের ক্ষতি করতে চায়, তারাই ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে চায়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-মুসলমান আলাদা আলাদা ভাগ হয়ে গেলে, আমরা কখনোই এগিয়ে যেতে পারব না।’
‘বিএনপি অতীতেও অসাম্প্রদায়িকতার নজির দেখিয়েছে। তাই এগুলো শুধু কথার কথা না, বিএনপি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্ব সৃষ্টি করবে’ বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ না। আমরা এ ধরনের স্বাধীনতা বিরোধী কার্যকলাপ একেবারে বন্ধ করে দেবো। এখানে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে।’
দায়িত্বশীল পদে থাকার সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি জোর গলায় বলতে চাই যে আপনাদের আমানত, ভোটের যে দায়িত্ব আমি নেব তা কখনো খেয়ানত করব না। আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন কারো কাছ থেকে এক কাপ চা ও গ্রহণ করিনি। কেননা রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘দেশের সকল কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে সার পাবেন, বীজ পাবেন, আর সেচের পানি পাবেন। আমাদের শিক্ষিত বেকার ভাই-বোনদের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৮ মাসে এক কোটি কাজের ব্যবস্থা করবেন।’