জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনা, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, জালভোট দেওয়া, হিন্দু ভোটারদের হুমকি দেওয়াসহ নানা বিষয়ে ১২৭টি অভিযোগ এনেছে বিএনপি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সবাই শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যেই থাকবেন বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য এমন পরিস্থিতি দুঃখজনক। একটি বিশেষ দল ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে ১২৭টি অভিযোগ আমাদের সামনে এসেছে। এসব বিষয় আমাদের হতাশ করেছে। সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে জামায়াত নেতার কাছে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। তার পরিবারের দাবি এটা ব্যবসায়িক টাকা। কিন্তু তিনি কর্মজীবী মানুষ। আয়কর দিয়েছেন মাত্র ৩ হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, যারা নীতির কথা বলেন, তাদের দলের এমন ঘটনায় নিন্দা জানাই। টাকা পাওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন, এটা অন্যায় না। ইসি সচিব পরে বলেছেন, তাকে মিসকোট করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, তিনি কখনোই এ কথা বলেননি। বিষয়টা দুঃখজনক। ইসি সচিব এ কথা বলতে পারেন না বা পত্রিকা মিস কোট করতে পারে না।
নজরুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ হয়ে ভোটারদের টাকা বিতরণের চেষ্টা করেন সাবেক ছাত্রলীগ এবং বর্তমান এনসিপি নেতা। জনগণ তা প্রতিহত করেছে। নারায়ণগঞ্জে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক। তার স্ত্রী প্রিজাইডিং অফিসার। স্বামী জামায়াত নেতা। তারা হ্যাঁ ভোটে সিল মারছিলেন, পরে প্রিজাইডিং অফিসার গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে সব প্রার্থীই কেন্দ্র খরচ পাঠান। লক্ষীপুরে বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কেন্দ্র খবচের ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েও বিভ্রান্তী ছড়ানো হচ্ছে। এ্যানির ১৩০টি কেন্দ্রে ৮০৭টি বুথে এজেন্টের কাছে প্রস্তুতি থাকতে হয়। সে পরিমাণ টাকা রাখতে হয়। ১৫ লাখ টাকা ১১৫টি কেন্দ্রের জন্য। কিন্তু একটি বিশেষ দল খবর ছড়িয়েছে ৮০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। একজন ইউটিউবার বলছেন, এ্যানির গাড়ি থেকে ২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।