বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক বাইনারির বাইরে থেকে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর চেতনা ধারণ করে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর অন্যতম প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ।
তিনি বলেন, ‘একটি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন এবং সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নাঈম আহমাদ বলেন, ‘দেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই মেরুতে আবদ্ধ—একদিকে বিএনপি ও তাদের জোট, অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের জোট।’ রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য এ দুই শক্তির উপস্থিতি থাকলেও সাধারণ মানুষের সামনে কার্যকর তৃতীয় বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, উল্লেখযোগ্য একটি অংশ নিরুপায় হয়ে দুই বলয়ের একটিতে অবস্থান নিচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাব থেকে। এ বাস্তবতায় সর্বজনীন ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে এবং সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’
বিগত দিনে আপ বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যক্রম সন্তোষজনক নয় এমন বাস্তবতাকে স্বীকার করে তিনি বললেন, ‘প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজনৈতিক অর্জন পুরোপুরি সম্ভব না হলেও কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব তৈরি হয়েছে।’ বিশেষ করে ‘জুলাইয়ের শক্তি’ হিসেবে একটি স্বীকৃতি এখনো রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে আত্মসমালোচনা ও পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান।
এদিকে দলীয় এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ জানান, সংগঠনটি নিজে কোনো রাজনৈতিক দলে পরিণত হচ্ছে না এবং নিকট ভবিষ্যতে এখান থেকে সরাসরি নতুন দল গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সদস্যদের মধ্যে মতদ্বৈততা তৈরি হয়েছে।’
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দল গঠনের বাস্তবতা যাচাইয়ে নাঈম আহমাদের নেতৃত্বে একটি ‘ফিজিবিলিটি টেস্ট’ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি নতুন দল গঠনের বাস্তবতা রয়েছে বলে মত দিলেও আলী আহসান জুনায়েদ, সদস্য সচিব আরেফিন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত ও মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা ওই সুপারিশের সঙ্গে একমত নন বলে জানান তিনি। তবে যারা নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে চান, তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আপ বাংলাদেশ ইস্যুভিত্তিক প্রেশার গ্রুপ হিসেবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে জুলাই গণহত্যার বিচার, পুলিশ সংস্কার, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে সংগঠনটি সক্রিয় থাকবে। নতুন দল গঠনের পর বাস্তবতা বিবেচনায় একটি কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।
সম্প্রতি সংগঠনটির রূপান্তরের নানামুখী আলোচনা নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের বাস্তবতা জন্ম দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় কেউ কেউ বলছেন সংগঠনটির যেসব নেতাকর্মী নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়াকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাদের মধ্যে অনেকে হয়তো জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী অধিকাংশ সদস্যদের নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিতে পারেন।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে আপ বাংলাদেশের এক দায়িত্বশীল নেতা নাগরিক প্রতিদিনিকে বলেন, ‘এনসিপিতে যোগ দিতে পারি, তবে তা নিশ্চিত নয়। আমরা আলাপ-আলোচনা করছি।’
অন্যদিকে আপ বাংলাদেশ থেকে এনসিপিতে যোগ দিতে চাওয়া নেতাকর্মীদের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল রহমান তুহিন জানান, নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ২৪ দফা কর্মসূচির সঙ্গে একমত এবং দ্বৈতপন্থা পরিহার করতে আগ্রহী যেকোনো ব্যক্তি বা শক্তির প্রতি তাদের অবস্থান উন্মুক্ত।
তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হবে।