কুয়ালালামপুরে অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি মানবপাচার সিন্ডিকেটের সন্ধান ও সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।
জেআইএম এনফোর্সমেন্ট শাখা ৩ এপ্রিল রাত ১২টা ৪০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের আমপাং এলাকায় একটি দোকানঘরের ওপর নির্মিত বাসায় অভিযান চালায়। এতে ‘গ্যাং আশরাফ’ নামে পরিচিত চক্রটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ। ওই বাসাটি অবৈধ অভিবাসীদের লুকিয়ে রাখা ও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে প্রধান গেট ও দরজা ভেঙে ঢুকতে হয়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ২৭ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়, যাদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা তিনদিন আগে একটি প্রতিবেশী দেশে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আনা হয়। একই সঙ্গে আরও তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা এই সিন্ডিকেটের সদস্য এবং ট্রানজিট ঘরের তদারককারী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে, সিন্ডিকেটটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সক্রিয় রয়েছে। তারা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় এনে কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করায় এবং পরে ক্লাং ভ্যালিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতি অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৮ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত আদায় করা হতো। এ পর্যন্ত সিন্ডিকেটটি প্রায় ২.৪ মিলিয়ন রিঙ্গিত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
আটক অভিবাসীদের বয়স ২০ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। তাদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (অপটিজম) অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং অপটিজম আইনের আওতায় যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।