অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রাচীন বাংলাদেশি সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার (বিএওএ) উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অ্যানুয়াল গালা ডিনার অ্যান্ড কালচারাল নাইট ২০২৬। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্স, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ট্রেড ম্যাট থিসলথওয়েট এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল ডেলি এমপি, ফেডারেল এমপি ডেভিড মনক্রিফ, লেপিংটনের এমপি নাথান হ্যাগার্টি এবং লর্ড মেয়র কাউন্সিলর ডার্সি লাউন্ড।
এ সময় বক্তব্য দেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, ইব্রাহিম খলিল মাসুদ ও আশিকুর রহমান (অ্যাশ) এবং ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর এলিজা আজাদ টুম্পা। বক্তারা বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটির ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়া গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ইসলাম অতিথিদের স্বাগত জানান এবং উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন। পরে মূল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন তিসা তানিয়া ও জুঁই সেন পল।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠের মাধ্যমে বহুধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়। এরপর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং অ্যাকনলেজমেন্ট অব কান্ট্রির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মনিরুল হক জর্জ। এ সময় প্রিমিয়ার ক্রিস মিনসসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদান, অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে তাদের ভূমিকা এবং বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ‘চলন্তিকা’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন, অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান, গ্রুপ ফটোসেশন এবং স্পন্সরদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সবশেষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
রাতে খাওয়ার আয়োজন শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য এবং মঞ্চ নাটক পরিবেশন করা হয়। এ সময় অতিথিরা প্রাণবন্ত এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন।