নির্বাহী নেতৃত্ব পুনর্গঠন এবং নতুন গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র প্রণয়নের অঙ্গীকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্সের (জিবিএ) এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের সনাই রেস্টুরেন্টে শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রশাসনিক পরিচালক ও মিডিয়া আউটরিচ কমিউনিটির অ্যাক্টিভিস্ট এবং সাংবাদিক আহমেদ সোহেল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান আজম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা ড. আবু সালেহ, প্রকৌশলী এম আব্দুস সোবহান, লায়ন আমির হোসেন কামাল, মোঃ বাদল, বিশিষ্ট রিয়েলেটর জাকির চৌধুরী, এমএম হোসেন, মোস্তাক আহমেদ, এনামুল হক, মোঃ আজাদ, জনি নাজমূল প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী নেতৃত্ব কমিটির কৌশলগত পুনর্গঠনের ঘোষণা দেয়। এই পরিবর্তন সংগঠনের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি এবং সাংগঠনিক আধুনিকায়নের প্রতি নবায়িত অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জিবিএ সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বর্তমান নির্বাহী কমিটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে। নতুন কাঠামোতে বিশেষ করে চেয়ার পদে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া, ড. গোলাম রব্বানী বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতির কারণে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর গ্রামীণ উন্নয়ন ও সম্পৃক্ততা বিষয়ক উদ্যোগে জিবিএ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত জিবিএ নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে চেয়ারম্যান আজম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ (বাংলাদেশ), ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আহমেদ (কানাডা), প্রশাসনিক পরিচালক ও মিডিয়া (আউটরিচ) সোহেল হোসেন (আহমেদ সোহেল), অর্থ পরিচালক তারিকুল ইসলাম, মিডিয়া পরিচালক মুনাফ চৌধুরি (বাংলাদেশ), সদস্য মিজান চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা ড. আবু সালেহ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, নেতৃত্বের এই পরিবর্তনকে জবাবদিহিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে জিবিএ নির্বাহী কমিটি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত প্রতিরোধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত এই গঠনতন্ত্রে জিবিএ-এর মূল দর্শন ‘অন্তর্ভুক্তির সংগঠন’ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য একটি সম্মানজনক, স্বচ্ছ এবং কঠোর যাচাই-বাছাই নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, যাতে সংগঠনের প্রতিটি নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
জিবিএ তাদের সব সদস্যকে অব্যাহত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে, এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজের একটি গঠনমূলক, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।