শবে কদরের রাতেই ভয়াবহ হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আফগানিস্তানে। রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটি। এই ঘটনায় সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছে আফগান সরকার, যদিও অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। ঘটনার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ও নবিন উল হকের পোস্টে উঠে এসেছে শোক, ক্ষোভ এবং নিন্দা।
হাসপাতালের ছবি পোস্ট করে রশিদ খান লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত। সাধারণ মানুষের বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেকোনো হামলাই অপরাধ। রমজানের পবিত্র মাসে এই হত্যালীলা খুবই আতঙ্কের। এতে হিংসা ও ঘৃণা আরও বাড়বে।’
পরে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই কঠিন সময়ে আফগান ভাইবোনদের পাশে আছি। আমরা নিশ্চয় এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠব।’
একই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে মোহাম্মদ নবি লিখেছেন, ‘কাবুলের হাসপাতালে আশার মৃত্যু ঘটল। যে তরুণেরা চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, তারা পাকিস্তানের সেনা শাসনের বলি হলেন। সন্তানের নাম ধরে মায়েরা চিৎকার করছিলেন। রমজানের ২৮তম দিনে তাদের জীবন চলে গেল।’
এই হামলার তীব্র সমালোচনা করে আফগান পেসার নবিন উল হক লিখেছেন, ‘ইসরাইল ও পাকিস্তানের সেনা শাসনের মধ্যে আর কী তফাত থাকল?’
গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চলছেই। সোমবারও দুই দেশের সীমান্তে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে, এতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সদস্য নিহত হন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাবুলের মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত প্রায় দুই হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে হামলার খবর আসে।
আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এই হামলা হয়। এতে হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ৪০০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তান নিজেদের নৃশংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।’ তিনি এটিকে ‘নীতিবিরুদ্ধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি দাবি করেছেন, কাবুলের কোনো হাসপাতালে হামলা চালানো হয়নি। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তারা কেবল সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত সামরিক স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আফগানিস্তানের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।