টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার যেন একেবারে অন্য রূপে দেখা গেল সাহিবজাদা ফারহানকে। ব্যাট হাতে শুরু থেকেই ছিলেন ভয়ঙ্কর ছন্দে। প্রতিপক্ষ বোলারদের উপর যেন নির্দয় ঝড় বইয়ে দিয়েছেন এই পাকিস্তানি ওপেনার। সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত এনে দিল আইসিসির ফেব্রুয়ারি মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটারের স্বীকৃতি।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ফারহানের ব্যাট যেন থামতেই চাইছিল না। একের পর এক ইনিংসে রান তুলতে তুলতে ভেঙে দিয়েছেন বিরাট কোহলির করা এক আসরের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। পাকিস্তানের হয়ে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে তিনি শুধু দলকেই এগিয়ে নেননি, নিজের নামও লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।
২০২৪ সালের নভেম্বরে হারিস রউফের পর প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে এই সম্মান জিতলেন ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তার ব্যাটিংয়ে ছিল পরিপক্বতা, আগ্রাসন আর অসাধারণ আত্মবিশ্বাসের মিশেল; যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৭৬.৬০ গড়ে ৩৮৩ রান করেন ফারহান। ১৬০.২৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা এই ডানহাতি ওপেনার টুর্নামেন্টে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।
নামিবিয়া ও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতক হাঁকিয়ে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে এক সংস্করণে দুটি সেঞ্চুরি করার রেকর্ড এখন তার দখলে।
এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ডটি ছিল বিরাট কোহলির। তিনি করেছিলেন ৩১৯ রান। কিন্তু ফারহানের ঝড়ো ব্যাটিং সেই রেকর্ডকে পেছনে ফেলে নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করেছে।
মাসসেরা হওয়ার পর উচ্ছ্বাস লুকাতে পারেননি ফারহান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করে এই পুরস্কার জেতাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য অনুভূতি। সতীর্থদের সমর্থন ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।’