ক্রীড়াবিদদের পেশাদার জীবনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা হলে’ ক্রীড়া কার্ড ও খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার সময় তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা করে পৌঁছে যায়।
এ সময় তিনি ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের সম্মাননা প্রদান করেন। সাফ ফুটসালজয়ী নারী দল, কাবাডি, ভলিবলসহ ২০টি ডিসিপ্লিনের মোট ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ এই কর্মসূচির আওতায় সম্মাননা পেয়েছেন।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদরা এখন থেকে বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই তালিকার বাইরে থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যারা বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছেন, তাদের তিনি অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যারা অংশগ্রহণ করেও জয়ী হতে পারেননি, তাদেরও সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া এখন আর নিছক খেলাধুলা, চর্চা বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা নির্বাচনের আগেই বলেছিলাম ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই—এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের জন্যও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে পৃষ্ঠপোষকতার আহ্বান জানান।
খেলাধুলাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সবার জন্য স্পোর্টস নিশ্চিতে ৭টি ডিসিপ্লিনে প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম শুরু হবে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিভা খুঁজে বের করে সেটিকে পেশায় রূপান্তর করতে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেন আমরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করতে পারি।’
দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও দলগত মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই গুণগুলো থাকলে সামনে এগিয়ে যেতে কোনো বাধা টিকতে পারে না।’
পেশাদার জীবনে নিরপেক্ষতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পেশাদার জীবনে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হবেন না। বরং নিজের পেশাগত দক্ষতা দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন।’
এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুল আলম।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, বেতন কাঠামোর আওতায় আসা ক্রীড়াবিদদের প্রতি চার মাস পরপর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে তারা এই সুবিধা অব্যাহত রাখবেন, অন্যথায় তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।
এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।