দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আবারও বিউটিফুল শো অন আর্থের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে ফিরেছে ইরাক। মেক্সিকোর মন্টেরে শহরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইন্টার-কনফেডারেশন প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। শেষার্ধে আয়মেন হুসেইনের করা গুরুত্বপূর্ণ গোলেই লেখা হয় এই ঐতিহাসিক জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ৪৮তম ও শেষ দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ইরাক। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ইরাক। ১০ মিনিটে আলি আল হামাদির গোলে লিড নেয় দলটি। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে মোইসেস পানিয়াগুয়ার গোল ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে এবং বিরতিতে যায় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আবারও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইরাক। ৫৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মার্কো ফারজির বাড়ানো ক্রস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আয়মেন হুসেইন। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ইরাক, তবে মোহানাদ আলি নিশ্চিত একটি সুযোগ নষ্ট করেন। তবুও জয় হাতছাড়া হয়নি, ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়ে দলটি।
ম্যাচ শেষে ইরাক কোচ গ্রাহাম আর্নোল্ড বলেন, ‘খেলোয়াড়রা সত্যিই ইরাকি মানসিকতা দেখিয়েছেন এবং লড়াই করেছে। তাই আমরা জয়ী হয়েছি। বলিভিয়াকে পুরো ক্রেডিট দিতে হবে, তারা ভালো খেলেছে। আমাদের প্রতিরক্ষা দুর্দান্ত ছিল, দিনশেষে আমরা জয়ী হয়েছি।’
আগামী বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপেই পড়েছে ইরাক। ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের সঙ্গে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত লড়তে হবে তাদের। এশিয়ার নবম দল হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ইরাকের জন্য এটি বিশেষ এক অর্জন।
উল্লেখ্য, ইরাকের একমাত্র আগের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ ছিল ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে। যেখানে তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্য নিয়েই বিশ্বমঞ্চে ফিরছে তারা।