টাইব্রেকারের শেষ শটটা নেওয়ার আগে যেন সময়টাই থমকে গিয়েছিল। গ্যালারির হাজারো চোখ তখন বল আর রোনান সুলিভানের পায়ের দিকে। শটটা গোললাইন পেরোতেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় সব; মালে স্টেডিয়াম জুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। সতীর্থরা ছুটছেন যে যার মতো, কেউ জড়িয়ে ধরছেন, কেউ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ছেন। ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।
এই জয়ের পেছনে যে কজন নায়ক, তাদের প্রথম সারিতেই আছেন গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। টাইব্রেকারে ভারতের প্রথম শটটি ঠেকিয়ে শুরুতেই দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। সেই ধারাবাহিকতার পুরস্কার হিসেবে তার হাতেই উঠেছে আসরের সেরা গোলরক্ষকের ট্রফি।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাসের মাঝেই নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন মাহিন। তিনি বলেন, ‘প্রথম শটটি ঠেকিয়ে অসাধারণ লেগেছে। মনে হয়েছে দেশের ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ করতে চলছি।’
এই শিরোপার স্বাদ মাহিনের কাছে আরও গভীর। কারণ, ঠিক এক বছর আগে ভারতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে টাইব্রেকারের হতাশা সঙ্গী হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার জয়ের হাসি। তবে আনন্দের মাঝেও একটুখানি আবেগ লুকিয়ে রাখেননি তিনি, ‘আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় অনেক খুশি। আমার বন্ধু আশিককে অনেক মিস করছি। আমরা একসঙ্গে এই টুর্নামেন্ট খেলেছি। আমি ওকে এই ট্রফি উৎসর্গ করছি।’
মালদ্বীপের মাঠে প্রতিটি ম্যাচেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্যালারির সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পেরে খুশি অধিনায়ক মিঠু। তিনি বলেন, ‘সমর্থকদের ধন্যবাদ। প্রতি ম্যাচে তারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। আমরা তাদের ট্রফি উপহার দিতে পেরেছি।’
এই দল শুধু একটি ট্রফি জেতেনি, তারা জিতেছে লাখো মানুষের হৃদয়। তাই শিরোপাটি দেশবাসীর জন্যই উৎসর্গ করেছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের ফুটবলাররা। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন আমেরিকান প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান। চার ম্যাচে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে নিজের সামর্থ্যের ছাপ রেখেছেন তিনি। ফাইনালের টাইব্রেকারে তার শটেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের শিরোপা জয়।
তবে ব্যক্তিগত পুরস্কারের মঞ্চে এগিয়ে ছিলেন ভারতের ওমাং দুদুম। তিন গোল করে মালদ্বীপের ইলান ইমরান তৌহিদের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। আর ফেয়ার প্লে পুরস্কার গেছে স্বাগতিক মালদ্বীপের ঘরে।