আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নতুন করে অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে। বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু সোফি স্টেডিয়ামে কর্মরত খাদ্য পরিষেবা শ্রমিকরা ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন, যা আসরটির আয়োজনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
প্রায় ২০০০ শ্রমিকের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন ইউনাইট হিয়ার লোকাল ১১ ফিফা ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেছে। তাদের স্পষ্ট বার্তা, এই দাবিগুলো পূরণ না হলে বিশ্বকাপ চলাকালীনই ধর্মঘটে যেতে পারেন তারা।
ইউনিয়নের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আইসিই ও বর্ডার পেট্রোল যেন টুর্নামেন্টে কোনো ভূমিকা না রাখে। পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং আতিথেয়তা খাতের কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
শুধু তাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। ইউনিয়ন নেতাদের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অটোমেশনের কারণে শ্রমিকদের কাজ কমে যেতে পারে। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে যেন প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে কর্মসংস্থান কমানো না হয়, সেই নিশ্চয়তা চান তারা। পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলসে উচ্চ ভাড়া, অভিবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা এবং কর ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও দাবি তোলা হয়েছে।
স্টেডিয়ামের মালিক প্রতিষ্ঠান ক্রোয়েনকে স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট এবং ফিফা এখনও এই ইস্যুতে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লিয়ন্স জানিয়েছেন, আইসিই বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ফিফা ও কর্পোরেট অংশীদাররা বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ যারা এই আয়োজনকে সফল করে। রাঁধুনি, পরিবেশক ও মাঠের পেছনের শ্রমিকরা; তাদের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, সোফি স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ। এর মধ্যে ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে এই ভেন্যুর যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। তবে তার আগেই শ্রমিক অসন্তোষ কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।