হেক্সা জয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়েই আসন্ন বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে প্রস্তুত ব্রাজিল। আর সেই মিশনে এবার দলের অন্যতম বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এক সময়ের ‘বিস্ময় বালক’ এখন সেলেসাওদের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি, দায়িত্বও বেড়েছে কয়েকগুণ।
রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড মনে করেন, এবারের ব্রাজিল দল এমনভাবে গড়া, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে তিনি জানিয়েছেন, এখন আর শুধু প্রতিভা দেখানোর সময় নয়, বরং দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপার পথে এগিয়ে নেওয়ার সময়।
ফিফার সঙ্গে আলাপচারিতায় ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আগে আমি ছিলাম কেবল একজন বিস্ময় বালক, কিন্তু এখন আমি দলের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছি। ব্রাজিলকে বিশ্বফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন আমার মূল লক্ষ্য। এটি একটি বিশাল দায়িত্ব এবং আমি একে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’ এই কথাতেই স্পষ্ট, নিজের ভূমিকা নিয়ে কতটা সচেতন তিনি।
তবে অতীতের তিক্ত স্মৃতিও ভুলে যাননি এই তারকা। কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায়ের কষ্ট এখনো তাড়া করে ফেরে তাকে। সেই প্রসঙ্গ টেনে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে আমাদের চমৎকার একটি দল ছিল এবং আমরা খুব কম ম্যাচই হেরেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। ফেভারিট কারা সেটা নিয়ে আমি ভাবছি না, কারণ মাঠে আমাদের নিজেদেরই প্রমাণ করতে হবে।’
দলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল নতুন ছন্দ খুঁজে পেয়েছে বলেও মনে করেন ভিনিসিয়ুস। তার ভাষায়, ‘তিনি আমার দেখা সেরা কোচ। ২১ বছর বয়সে যখন তার অধীনে খেলি, তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন। আনচেলত্তি ফুটবলকে খুব সহজ করে তোলেন এবং দলের মধ্যে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বজায় রাখেন যা আমাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
কৌশলগত দিক থেকেও এসেছে পরিবর্তন। ভিনিসিয়ুস জানান, ‘তিনি আমাদের পজিশন বদলে খেলার এবং সহজাত শৈল্পিক ফুটবল খেলার স্বাধীনতা দেন। তবে আধুনিক ফুটবলে দলগত শক্তির ওপর জোর দেওয়া সবচেয়ে জরুরি।’
আগামী ১৩ জুন নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান। বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস, ‘আমাদের স্কোয়াড যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে বিশ্বকাপ একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু কঠিন টুর্নামেন্ট। গত বিশ্বকাপের মতো কেউ ইনজুরিতে পড়লে যেন মানসিকভাবে দল ভেঙে না পড়ে, সেজন্য আমাদের সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা এবার যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে ররং।’