উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমাঞ্চের আরেকটি রাত। যেখানে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ফল নিয়ে ছিল দোলাচল। শুরুতে ধাক্কা খেলেও দমে যায়নি বায়ার্ন মিউনিখ, বরং শেষ মুহূর্তের ঝড়ে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে বাভারিয়ানরাই, নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনালের টিকিট।
অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার রাতের ম্যাচটা শুরু হয় চোখ ধাঁধানো নাটকীয়তায়। মাত্র ৩৬ সেকেন্ডেই গোল! বায়ার্ন গোলরক্ষক নয়্যারের ভুলে সুযোগ পেয়ে দূর থেকে বল জালে জড়ান আরদা গুলার। শুরুতেই এগিয়ে যায় রিয়াল, আর দুই লেগ মিলিয়ে সমতায় ফেরে গ্যালাকটিকোসরা।
তবে এই ধাক্কা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি বায়ার্ন। কর্নার থেকে কিমিচের নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে সমতা ফেরান আলেকজান্ডার পাভলোভিচ। ম্যাচ তখন একেবারে জমে ওঠে। ৩০ মিনিটে আবারও গুলারের ফ্রি-কিক থেকে গোল। রিয়াল ফের এগিয়ে, উত্তেজনা আরও চরমে।
৩৯ মিনিটে আবার ঘুরে দাঁড়ায় বায়ার্ন। বক্সের ভেতর সুযোগ পেয়ে গোল করেন হ্যারি কেইন। কিন্তু বিরতির আগে শেষ আঘাতটা হানে রিয়ালই, ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে সহজ গোল করে এমবাপ্পে দলকে আবারও এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ যেন আরও আগুন ঝরাতে থাকে। সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল, বিশেষ করে এমবাপ্পের একাধিক মিস তাদের ভুগিয়েছে। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৮৭ মিনিটে, কামাভিঙ্গার লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল।
এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি বায়ার্ন। ৯০ মিনিটে দূরপাল্লার জোরালো শটে সমতা ফেরান লুইস দিয়াজ। আর যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত কার্লিং শটে জয়সূচক গোল করেন মাইকেল অলিসে। অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা তখন আনন্দে বিস্ফোরিত।
৪-৩ গোলের এই জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পিএসজি। অন্যদিকে, আর্সেনাল গোলশূন্য ড্র করেও সেমির টিকিট পেয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ।