ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ঘিরে সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ও অন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় ন্যাশনাল গার্ডকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য। একটি ‘একীভূত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা’ নিশ্চিত করতে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি এ অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির সদস্য মাইকেল ম্যাককল ও এলাইজা ক্রেন একটি চিঠি পাঠান। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ও পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ-এর কাছে।
চিঠিতে ওই দুই আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে এবং ড্রোন-সংক্রান্ত যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় ন্যাশনাল গার্ডকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া জরুরি। মূলত একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী ফেডারেল নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
ম্যাককল ও ক্রেন চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরের আকাশসীমা নিরাপদ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তসংস্থা পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, জনবলসংকট এবং আয়োজক শহর ও আয়োজক কমিটির মধ্যে আইনি এখতিয়ার নিয়ে জটিলতা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই একটি একীভূত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং দেশজুড়ে সেবা দেওয়ার সক্ষমতার কারণে ন্যাশনাল গার্ড এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অভ্যন্তরীণ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা (সি-ইউএএস) এবং বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের সহায়তায় তারা সবচেয়ে কার্যকর বাহিনী হতে পারে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, বিচার বিভাগ ও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারে বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণের ঘটনার পরপরই ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সেনা মোতায়েনের এই আহ্বান আসে। ওই ঘটনায় বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস গতকাল সোমবার আশ্বস্ত করেছে যে ওই ঘটনার পরও বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো নিরাপদেই অনুষ্ঠিত হবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেন, প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করতে চান এবারের বিশ্বকাপ শুধু দর্শকদের জন্য অভিজ্ঞতাই নয়, বরং হবে ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত আসর।