বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মাঠে দারুণ পারফরম্যান্স দিয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন জাতীয় দলের স্পিনার নাসুম আহমেদ। কিন্তু মাঠের সেই উজ্জ্বলতার বাইরে এবার উঠে এসেছে এক তিক্ত অভিজ্ঞতা। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটার বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অন্যতম মালিক মাহিদুল ইসলাম সামিকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে নাসুমের পোস্টটি ছিল বেশ আবেগঘন এবং ক্ষোভভরা। তিনি লিখেছেন, ‘আমার ৩৫ লাখ টাকা তো দিয়েছেন, সরাসরি চুক্তির বাকি ৩৫ লাখ টাকা কি দিবেন? নাকি মরার পর চল্লিশার সময় দিবেন?’এমন প্রশ্নে শুধু অর্থ নয়, ফুটে উঠেছে একজন পেশাদার ক্রিকেটারের অসহায়তাও।
শুধু এখানেই থামেননি নাসুম। তিনি আরও লেখেন, যদি টাকাটা মৃত্যুর পর দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে যেন তাকে জানানো হয়, যাতে তিনি তার পরিবারকে বলে যেতে পারেন যে সিলেট টিমের মালিকের কাছে তিনি টাকা পাবেন। এমন কথায় তার হতাশা কতটা গভীর, তা স্পষ্টই বোঝা যায়।
এদিকে সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্ট ফাহিম আল চৌধুরীকেও তিনি বার্তা দিয়েছেন। বড় ভাই সম্বোধন করে সহায়তা চেয়ে নাসুম লিখেছেন, ‘ভাই, আমার টাকাগুলো যেন পাই; এই বিষয়ে একটু দেখবেন। আমার কথা বলার মতো কেউ নেই।’ এই আকুতি যেন পুরো ঘটনাটিকে আরও মানবিক করে তুলেছে।
অথচ পারফরম্যান্সের দিক থেকে নাসুম ছিলেন সিলেটের অন্যতম ভরসা। গত আসরে ১২ ম্যাচে ১৮টি উইকেট নিয়ে ছিলেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তার ইকোনমি ছিল ৫.৯৭, আর সেরা বোলিং ৫/৭; যা তার ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়।
মাঠে সাফল্য আর মাঠের বাইরের এই অনিশ্চয়তার দ্বন্দ্বই এখন সামনে এনেছে এক বড় প্রশ্ন, খেলোয়াড়দের প্রাপ্য সম্মান ও পারিশ্রমিক কতটা নিশ্চিত? নাসুমের এই পোস্ট সেই প্রশ্নকেই নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে