‘এল ক্লাসিকো’ কখনোই শুধু একটি ম্যাচ নয়। আর সেটি যদি হয় লিগ শিরোপা নির্ধারণের লড়াই, তাহলে উত্তেজনা পৌঁছে যায় অন্য মাত্রায়। ১৯৩২ সালের পর এবারই প্রথম লা লিগায় মৌসুমের শেষ ক্লাসিকো ঠিক করল শিরোপার ভাগ্য। আর সেই মঞ্চে উৎসবটা নিজেদের করেই রাখল বার্সেলোনা।
ক্যাম্প ন্যুতে ড্র করলেই শিরোপা নিশ্চিত ছিল বার্সার। কিন্তু তারা মাঠে নেমেছিল জয়ের লক্ষ্য নিয়েই। শুরু থেকেই দাপট দেখানো দলটি মাত্র ১৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। ৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করেন মার্কাস রাশফোর্ড। এরপর দানি ওলমোর ব্যাক হিল থেকে আসে ফেরান তোরেসের গোল। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত, যদি না থিবো কোর্তোয়া কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচাতেন।
অন্যদিকে পুরো ম্যাচে ছন্নছাড়া ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ৮টি শট নিলেও পোস্টে রাখতে পেরেছে মাত্র একটি। কিলিয়ান এমবাপ্পের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে দলকে, তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। জুড বেলিংহামের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হওয়া ছাড়া তেমন কোনো চাপই তৈরি করতে পারেনি রিয়াল।
বার্সার জন্য ম্যাচটি ছিল আবেগেরও। সকালে বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়েও ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন কোচ হান্সি ফ্লিক। গোল করার পর রাশফোর্ড ও তোরেস দুজনই ছুটে যান তার কাছে। যেন এই জয় কোচের জন্যই।
মজার বিষয়, লামিন ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও জুলস কুন্দে কেউই ছিলেন না শুরুর একাদশে। তবু ম্যাচজুড়ে দাপট কমেনি বার্সার। শেষ বাঁশির পর মাঠে নেমে সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা উৎসবে মাতেন ইয়ামালরা। গ্যালারিজুড়ে তখন ধ্বনি উঠছিল ‘চ্যাম্পিয়নস, চ্যাম্পিয়নস’।
এই জয়ে ৩৫ ম্যাচে ৯১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার ২৯তম শিরোপা নিশ্চিত করল বার্সা। সমান ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৭৭। হাতে তিন ম্যাচ থাকলেও এখন আর বার্সাকে ধরার সুযোগ নেই তাদের।
অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় মৌসুম ট্রফিহীন থাকতে হচ্ছে রিয়ালকে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর হতাশাজনক পারফরম্যান্সে কোচ পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।