বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মনে করেন, রাজনৈতিক জীবনে আসার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। শুরু থেকেই নানা আলোচনা-সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিককে তিনি বলছেন, এসব অভিজ্ঞতা তাকে হতাশ না করে বরং আরও বাস্তববাদী করেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সাকিব। সেখানে তিনি জানান, রাজনীতিতে আসা নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক সিদ্ধান্তের মূল্য আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে বলে মনে করেন তিনি। সাকিব বলেন, মানুষ অনেক সময় ভুলে যায় যে তিনি একটি নির্দিষ্ট আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। ক্রিকেটার হিসেবে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা থাকলেও নির্বাচনে জয়ের পেছনে ছিল তার এলাকার মানুষের সমর্থন ও ভোট।
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন এই অলরাউন্ডার। তার মতে, বাংলাদেশে এখনো রাজনীতি নিয়ে অনেক নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মানুষের জন্য কাজ করার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হচ্ছে রাজনীতি।
তিনি মনে করেন, শুধু কিছু সিদ্ধান্ত নিলেই সমাজ বদলে যায় না। পরিবর্তন আনতে হলে পুরো ব্যবস্থার ভেতরে গিয়ে কাজ করতে হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অবদান রাখতে হয়। সাকিবের ভাষায়, রাজনীতিতে অনেকেই ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আসেন। ফলে যারা সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য কাজ করতে চান, তারা অনেক সময় সঠিক সুযোগ পান না।
তিনি আরও বলেন, যে কেউ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন এবং নিজের পছন্দের দল করতে পারেন। তবে খারাপ কাজের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দোষ মানুষ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান সাবেক এই সংসদ সদস্য। দেশে ফিরে আবার ক্রিকেট খেললে দলের নেতা-কর্মীরা সেটি কীভাবে নেবেন, এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, এ বিষয়ে তার চেয়ে দলের লোকেরাই ভালো বলতে পারবেন।