বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা জিতেছেন আইসিসির এপ্রিল মাসের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার। ওমানের জাতিন্দর সিং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজর কুমারকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো এই স্বীকৃতি অর্জন করলেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত ওয়ানডে সিরিজ খেলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন নাহিদ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১৬.৭৫ গড়ে এবং ৪.৪৬ ইকোনমিতে ৮ উইকেট শিকার করেন এই ডানহাতি পেসার। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় এনে দেয় বাংলাদেশকে।
এর আগে গত বছরের এপ্রিলে এই পুরস্কার জিতেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার হিসেবে মাসসেরার স্বীকৃতি পেলেন নাহিদ। যদিও মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেটি একদমই ভালো যায়নি তার। এক উইকেট নিতে খরচ করেন ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৬৫ রান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। মাত্র ৩২ রান দিয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট।
চট্টগ্রামে সিরিজের শেষ ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট নেন নাহিদ। পুরো সিরিজে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পুরস্কার হিসেবে হন সিরিজসেরা খেলোয়াড়। শুধু নিউজিল্যান্ড সিরিজ নয়, এর আগেও ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করে যাচ্ছেন নাহিদ। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষেও ওয়ানডে সিরিজে নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। সেই সিরিজেই প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।
এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও নিজের দাপট দেখান এই পেসার। মিরপুর টেস্টে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ১০৪ রানের স্মরণীয় জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। আইসিসির মাসসেরার পুরস্কার জয়ের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নাহিদ বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করার পর আইসিসি মাসসেরা নির্বাচিত হওয়া সত্যিই দারুণ অনুভূতির।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজেদের মাঠে এমন সাফল্য পাওয়ায় সিরিজটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছিল এবং এটি এমন একটি সিরিজ, যা আমি সবসময় মনে রাখব।’
সতীর্থদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই তরুণ পেসার। নাহিদের ভাষায়, ‘পুরো সময়জুড়ে আমার সতীর্থদের অবিচল সমর্থন ও আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
ভবিষ্যতেও দলের সাফল্যে অবদান রাখতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও দলের জন্য আরও জয় ও স্মরণীয় মুহূর্ত এনে দিতে অবদান রাখতে পারব।’