বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জার্মান বংশোদ্ভূত সাবেক মার্কিন ফুটবলার টমাস ডুলি। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার (২২ মে) সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেয়।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ আজ সকালেই ঢাকায় পৌঁছান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার (২৪ মে) থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন তিনি।
বাফুফের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দল গঠন ও উন্নয়নে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে ডুলির। এশিয়ান ফুটবলের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কে তার গভীর ধারণা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ফুটবলের তরুণ খেলোয়াড়দের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সফল করে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য।
হাভিয়ের কাবরেরার উত্তরসূরি হলেন ডুলি। কাবরেরার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোচ নিয়োগ নিয়ে কয়েকদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। অবশেষে সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নতুন কোচের নিয়োগ চূড়ান্ত করে বাফুফে।
আগামী ৫ জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচ।
খেলোয়াড়ি জীবনে ডুলির ক্যারিয়ারও সমৃদ্ধ। মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাবার ও জার্মান মায়ের সন্তান ডুলি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেন তিনি, যেখানে ১৯৯৮ আসরে তিনি দলটির অধিনায়কও ছিলেন। মোট ৮১ ম্যাচে তিনি ৭ গোল করেন।
ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি বায়ার লেভারকুজেন ও শালকের মতো জার্মান ক্লাবে খেলেছেন। শালকের হয়ে ১৯৯৭ সালে উয়েফা কাপ (বর্তমানে ইউরোপা লিগ) জেতেন এবং ১৯৯০–৯১ মৌসুমে এফসি কাইজারস্লাউটার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জয় করেন।
খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষে ২০০২ সালে কোচিংয়ে নাম লেখান ডুলি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনে ফিলিপাইন অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং অর্জন করে।
২০২২ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আবারও ফিলিপাইন দলের দায়িত্বে ফেরেন তিনি। এরপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন ডুলি, যেখানে তার অধীনে দলটি চার ম্যাচে চারটিতেই জয় পায়। এছাড়া তিনি ভিয়েতনামের ক্লাব ভিয়েতেলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন।
ডুলির অধীনে বাংলাদেশের প্রথম মিশন হবে ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ, যেখানে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মাঠে নামবে বাংলাদেশ জাতীয় দল।