উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য এখনো চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেননি লিওনেল স্কালোনি। তবে আর্জেন্টিনার দলে লিওনেল মেসি যে নিশ্চিতভাবেই থাকছেন, তা বলাই বাহুল্য। শুধু দলের একজন সদস্য হিসেবেই নয়, বিশ্বমঞ্চে লা আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্বের আর্মব্যান্ডও পরবেন তিনি। অর্থাৎ এবারের বিশ্বকাপে মেসি থাকছেন সত্যিকারের ‘নেতাদের নেতা’ হয়ে।
টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামতে যাচ্ছেন মেসি। ইন্টার মায়ামির এই তারকার চারপাশে এবার থাকছেন আরও অনেক অভিজ্ঞ অধিনায়ক, যারা নিজ নিজ ক্লাবে নেতৃত্ব দিয়ে অভ্যস্ত। এই তালিকায় আছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, লাউতারো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস, গনসালো মন্তিয়েল, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মতো পরিচিত মুখরা।
মেসির নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা খেলেছে ১৮টি ম্যাচ। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। সাবেক কোচ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী সার্জিও বাতিস্তা সেই সময়ের কথা মনে করে বলেন, ‘যখন মেসি পরিণত হলো, যখন সে বুঝতে পারল এটা তার সময়, তখনই সে দায়িত্ব নিতে শুরু করে। সে অপেক্ষা করেছিল, আর যখন বুঝল নেতৃত্ব দেওয়ার সময় এসেছে, তখনই এগিয়ে আসে। সে খুবই বুদ্ধিমান ছিল। যখন সে নিজেকে প্রস্তুত মনে করত না, তখন নেতৃত্ব নিতে চাইত না। সে শুধু ফুটবল খেলতেই মন দিত।’
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে হাভিয়ের মাশচেরানোর কাছ থেকে আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব পান মেসি। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন দলের অবিসংবাদিত নেতা। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার নেতৃত্ব নিয়ে ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেস বলেন, ‘লিও বিনয়ের সঙ্গেই নেতৃত্ব দেয়, টানা এত বছর শীর্ষে থেকেও। হারলে সে রেগে যায়; এটাই তার বিশেষত্ব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে নেতৃত্বকে ভারসাম্য দিয়ে রাখে, এখানে নেতা প্রশ্নের বাইরে, সে-ই নেতা। এমন অবিসংবাদিত নেতা দিকনির্দেশনাও অনেক দেয়।’
এবারের আসরে জে গ্রুপে রয়েছে মেসির আর্জেন্টিনা। আগামী ১৭ জুন কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বমিশন। ২২ জুন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, আর ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।