বিশ্বকাপ জিততে ফুটবল লাগে, জাদু নয়। তবু যদি সত্যিই জাদুর সাহায্যে বিশ্বকাপ জেতা যেত, তাহলে মার্কিন ফুটবল দলের মিডফিল্ডার ওয়েস্টন ম্যাককেনির কাছে প্রস্তুত ছিল কয়েকটি বিশেষ মন্ত্র। বিশ্বকাপের ঠিক আগে সিএনএনকে দেওয়া এক হালকা মেজাজের সাক্ষাৎকারে এমনই মজার মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের এই তারকা ফুটবলার।
সাক্ষাৎকারে ম্যাককেনিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, হ্যারি পটারের জাদুর জগত থেকে একটি মন্ত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি কোনটি ব্যবহার করতেন। উত্তরে তিনি প্রথমে হেসে বলেন, ‘আভাদা কেদাভরা’, কারণ তাহলে আর কোনো প্রতিপক্ষই থাকত না। কিন্তু পরক্ষণেই নিজের মন্তব্যকে খুব বেশি সিরিয়াস মনে হওয়ায় তিনি হেসে সেটিকে মজা বলে উড়িয়ে দেন। এরপর তিনি আরও নিরীহ গোছের জাদুমন্ত্রের কথাও বলেন।
এই মন্তব্য শুনে অনেকেই অবাক হননি। কারণ ম্যাককেনি দীর্ঘদিন ধরেই হ্যারি পটার সিরিজের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র দলের সতীর্থরাও এ বিষয়ে বহুবার মজা করেছেন। এমনকি অতীতে গোল করার পর তিনি হ্যারি পটারের জাদুদণ্ড নাড়ানোর ভঙ্গিতে উদযাপনও করেছিলেন। পরে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, শৈশব থেকেই তিনি এই কল্পকাহিনীর ভক্ত এবং তাঁর হাতে বজ্রচিহ্নের একটি ট্যাটুও রয়েছে, যা হ্যারি পটারের বিখ্যাত প্রতীকের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।
ম্যাককেনি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের জন্য নন, ড্রেসিংরুমের প্রাণবন্ত চরিত্র হিসেবেও পরিচিত। মার্কিন দলের ভেতরে তিনি অন্যতম রসিক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। সতীর্থদের সঙ্গে মজা করা, সাক্ষাৎকারে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে হাস্যরস সৃষ্টি করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে মজার মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া, এসবের কারণে তিনি সমর্থকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়।
তবে হাসি-ঠাট্টার আড়ালে ম্যাককেনি যুক্তরাষ্ট্র দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। টেক্সাসে বেড়ে ওঠা এই মিডফিল্ডার জার্মানির শালকে ক্লাব থেকে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব জুভেন্টাসে যোগ দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। বর্তমানে তিনি জুভেন্টাসের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার এবং সম্প্রতি ক্লাবটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নতুন চুক্তিও করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে এবারের আসরের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ঘরের মাঠে খেলতে নামা মার্কিন দলকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। কোচ মরিসিও পোচেত্তিনোর দলে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, টাইলার অ্যাডামস, টিমোথি ওয়েহা এবং ওয়েস্টন ম্যাককেনিদের প্রজন্মকে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রজন্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে জায়গা পাওয়া ম্যাককেনির কাঁধে থাকবে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের বড় দায়িত্ব। শক্তি, গতি, আক্রমণ ও রক্ষণ, সব জায়গায় অবদান রাখার ক্ষমতার কারণে তাঁকে অনেক বিশ্লেষক সুইস আর্মি নাইফ ফুটবলার বলে আখ্যা দেন। অর্থাৎ মাঠের প্রায় সব জায়গাতেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে এবং দলটি নিজেদের ইতিহাসের সেরা সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে। যদিও বাস্তবে হগওয়ার্টসের কোনো জাদুদণ্ড তাদের হাতে নেই, তবু সমর্থকরা আশা করছেন ম্যাককেনি ও তাঁর সতীর্থরা ফুটবলের জাদুতেই বিশ্বমঞ্চে চমক দেখাবেন। আর যদি কখনও বিশ্বকাপে কোনো অলৌকিক মুহূর্ত দেখা যায়, তাহলে হয়তো মজা করেই কেউ বলবে, সেখানে হ্যারি পটারেরও একটু অবদান ছিল।
সূত্র: সিএনএন স্পোর্টস, যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন, রয়টার্স, ফক্স স্পোর্টস, লাইভ নাও ফক্স।